
কামরুল হাসান

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় হয়ে এসেছে। তিস্তা চুক্তি হয় হয় করেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। দুটি নদীই বাংলাদেশে ঢুকেছে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে। দিল্লির ভাষ্য, পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতেই এগোয়নি তিস্তা চুক্তি। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায়। তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি এবার কীভাবে এগোয়, সেটি...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে গেল। এটি ছিল দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন। গত ১২ মার্চ এই অধিবেশন শুরু হয়েছিল। মাঝে রোজার ঈদের ছুটি বাদ দিয়ে সংসদ চলল ২৫ দিন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই বিশ্ব পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তির অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার হৃত গৌরব ফিরে পেতে গা-ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা, চীনের উত্থান এবং বাণিজ্যিক-আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

ঈদের দিন বিকেলে পাবনা থেকে সাবেক সহকর্মী আশীষ-উর-রহমান শুভর ফোন। কাতর কণ্ঠে বললেন, ‘বন্ধু, খুব বিপদে আছি, একটু তেল জোগাড় করে দাও।’ তিনি ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন ঈদ করতে। রাজধানীতে ফিরে যেতে পারছেন না শুধু নিজের গাড়িতে তেল না থাকার কারণে। শুভর কথায় সচকিত হলাম।

আবার কি পৃথিবী অশান্ত হয়ে উঠল? ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানবসভ্যতা অনেকবার এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে অন্য সময়ের চেয়ে উদ্বেগ কিছুটা বেশিই বলে মনে হচ্ছে।

পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে গতকাল। এ সময় এলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে একটি বড় পরীক্ষা দিতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব সময় বলে আসছে, দেশে উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু বাস্তব ফল উল্টো। ফলমূল, সবজি, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতো এবারেও বেড়েছে।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দল এখন মাঠে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—কোথাও চলছে সভা, কোথাও কর্মসূচি, কোথাও ডিজিটাল প্রচার। এই নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসীন দল আর বিরোধী দল বলে কিছু নেই। ক্ষমতাসীনেরা থাকলে তারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলত। বিপরীতে বিরোধীরা বলত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা। এখন

নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে ‘মতান্তরের জেরে’ তরুণদের স্বপ্নের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সামনের সারির বেশ কয়েকজন নেতা। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পদত্যাগ করলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা। এ নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন এই দলটি থেকে...

বাংলাদেশ আবারও একটি সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন—যা শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এই নির্বাচন ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে গভীর উদ্বেগও।

রাখাইনে প্রস্তাবিত মানবিক করিডর বাস্তবায়নের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ এবং চীন-ভারতের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশকে জটিল ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে ফেলতে পারে। এটি শুধু সীমান্ত নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

তখন ইন্টারনেট আসেনি, মোবাইল ফোন ছিল না। মার্ক জাকারবার্গের ‘অনাথ আশ্রম’ ফেসবুকের নামও শোনেনি কেউ। তখন ছিলেন স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতাকে তখন ভালোবাসত মানুষ।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে যে অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তিনি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি যদিও ব্যক্তিগত, তারপরও

সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে ইস্কাটনে জনকণ্ঠ ভবনে পৌঁছাতে বড়জোর ১৫ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে টেলিফোন অপারেটর লিজার দুবার ফোন। এক যুবকের তাড়ায় লিজার তর সইছিল না। সেই যুবক আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য সকাল থেকে অপেক্ষায় আছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) তখন ক্রাইম বিভাগ চারটি। পূর্ব বিভাগের ডিসি ছিলেন মোখলেসুর রহমান, যিনি পরে অতিরিক্ত আইজি হয়েছিলেন। একদিন রাত ৯টার দিকে তাঁর ফোন। বললেন, সর্বনাশ হয়ে গেছে। তাঁর কথায় হতাশার সুর। জানতে চাইলাম, কী এমন হয়েছে?

সূত্রাপুরের গেন্ডারিয়ায় ২০০০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি জোড়া খুনের ঘটনা নিয়ে বেশ হইচই পড়েছিল। মহসিন ও সায়েম নামের দুই যুবককে অপহরণের পর পেশাদার কসাই দিয়ে তাঁদের লাশ ১২ টুকরা করে ম্যানহোলে ফেলে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সেই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন

ঢাকার নিউ বেইলি রোডে সুইস বেকারির পেছনের যে ভবনে এখন আর্টিসান আর অঞ্জন’স ফ্যাশন, সেখানেই ছিল শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়। একদিন বিকেলে সেই অফিসে এক সহকারী পরিচালকের রুমে বসে গল্প করছি। হঠাৎ সেই কর্মকর্তার ল্যান্ডফোন বেজে উঠল। যথারীতি তিনি ফোন ধরলেন

ফোন আর বাজে না। এপার থেকে বারবার চেষ্টার পর শোনা যায়—‘দুঃখিত, এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ মিষ্টি, অথচ একঘেয়ে স্বরটিকে যারপরনাই নিষ্ঠুর মনে হতে থাকে সুমির। কিন্তু তাঁর প্রতীক্ষা আর শেষ হয় না। যে নম্বরে তিনি ফোন করছিলেন, সেটি সুমির এক প্রিয়জনের, তা-ও অনুরোধের।

একদিন রাতে হঠাৎ এক নারীর ফোন। নিজের পরিচয় সম্পর্কে শুধু জানালেন, তিনি ফিরোজ আল মামুনের স্ত্রী। তারপর বললেন, ‘সাংবাদিক সাহেব, বিরাট চাকরি করেন, কাঁড়ি কাঁড়ি বেতন পান। কিন্তু আমার মতো অসহায় মানুষের কথা কখনো ভেবেছেন? খোঁজ নিয়েছেন, আমরা কীভাবে এত বছর ধরে বেঁচে

বয়স্ক লোকটি অনেকক্ষণ ধরে বসে ছিলেন। হাতে আ-ফোর সাইজের একটি কাগজের খাম। এক অফিস সহকারী এসে বললেন, ‘ভদ্রলোক আমার সঙ্গে ছাড়া আর কারও সঙ্গে কথা বলবেন না।’ হাতে একটি জরুরি কাজ ছিল, তারপরও পীড়াপীড়ির কথা শুনে সেটা অসমাপ্ত রেখে চলে এলাম। এসে মনে হলো ভালোই হয়েছে, আর একটু দেরি করলে তিনি চলে যেতেন।

কুমিল্লা শহরতলির নেউরা গ্রামের লোকজন খবরটি শুনে খুবই হতবাক হয়েছিলেন। তাঁরা কস্মিনকালেও জানতে পারেননি, তাঁদের গ্রামের ভালো মানুষটি ‘সাধু বেশে পাকা চোর অতিশয়’। তা-ও যেনতেন নয়, রীতিমতো ‘পুলিশের তালিকাভুক্ত’ তকমা আঁটা সন্ত্রাসী। এত দিন যে লোকটি দুহাতে দান-খয়রাত করেছেন, মসজিদ-এতিমখানা বানিয়েছেন, বিপদগ্রস

দিনগুলো বড় অদ্ভুত। কোনো কোনো দিন আসে সকালের নরম রোদের মতো প্রশান্তি নিয়ে, আবার কোনো দিন আসে ঝড়ঝঞ্ঝা নিয়ে। ২০০২ সালের ১ অক্টোবরও ছিল সে রকম, শান্তি উবে যাওয়ার দিন। সেই অশান্তি শুরুও হলো বেলা বাড়ার আগে।

কারওয়ান বাজারে প্রায়ই দেখতাম, সোনারগাঁওয়ের চার মাথায় দাঁড়িয়ে গাড়িচালকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল। তাঁর হাত প্রসারিত। সবাই দেখতেন, তিনি ‘পারানির কড়ি’ আদায় করেছেন। কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। বলে হবেই-বা কী! এ দৃশ্য তো

অপরাধবিষয়ক রিপোর্টারদের কাছে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে যাওয়া-আসাটা ডালভাতের মতো। কাজে- অকাজে প্রায়ই যেতে হয়। অনেকে সেখানে দীর্ঘ সময়ও কাটান। কিন্তু পুলিশ-সাংবাদিকের বাইরেও কিছু লোক মিন্টো রোডের আশপাশে ঘুরঘুর করেন। সে রকমই একজন ছিলেন মোকাররম হোসেন

সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে পাঁচজনের সামনে কিছু কথা বলতে গেলেই আমি প্রায় দিশেহারা হয়ে যাই। সমস্যা হয়, কোনটা ছাড়ি, কোনটা বলি। প্রবাদে আছে, বাঁশবনে ডোম কানা। যে বাঁশই চোখে পড়ে, আহাম্মক ডোম সেটাই কাটতে চায়। আকছার যা হয়, দিন শেষে একটা নিরেস বাঁশ নিয়ে বাড়ি ফেরে ডোম। আমার অবস্থাও তা-ই। যা কিছু বলি না কেন, কেউ ন

সে সময় কিষণগঞ্জ ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর সীমানা পার হয়ে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার একটি মহকুমা শহর। পটুয়া কামরুল হাসানদের বহু আত্মীয়-স্বজন কিষণগঞ্জেই স্থিত হয়েছিলেন। কামরুল হাসানের বাবার বড় ভাইও ছিলেন সেখানে। মজার ব্যাপার, সেই পরিবারের পুরুষেরা বলত উর্দু আর মেয়েরা বলত বাংলা। ১৯৩৫ সালে পূজার ছুটিতে

থাইএয়ারের উড়োজাহাজে আসা দুই বিদেশিকে নিয়ে গাড়িটা সোজা চলে গেল ঢাকা বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের ভেতরে। দুই যাত্রীর একজন অ্যান্থনি সকার, আরেকজন বার্নার্ড রুডিগার। একজন ব্রিটিশ, অন্যজন জার্মান। দুজনই বিজনেস ক্লাসের যাত্রী, তাঁদের হাতে চামড়ার তৈরি

মোগল দরবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নাম ছিল মুনশি। ধর্মীয় জ্ঞান, ভাষা, বিজ্ঞান ও দর্শনশাস্ত্রের পণ্ডিতকে এই ফারসি শব্দে অভিহিত করা হতো। তবে মুনশি শব্দ নিয়ে এত মুনশিয়ানা দেখানোর বিস্তর জ্ঞান আমার কস্মিনকালেও ছিল না। এটা জেনেছি সৈয়দ মুজতবা আলীর পঞ্চতন্ত্র পড়ার সুবাদে।

অপেক্ষা নাকি মৃত্যুর চেয়েও কঠিন। কোন মনীষী কথাটা বলেছিলেন, সেটা আর মনে নেই। কিন্তু কথা যে সত্যি, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আড়াই ঘণ্টা ধরে পাঁচ তারকা হোটেলের লবিতে বসে আছি। ভদ্রলোকের দেখা নেই। অবশ্য এর মধ্যে তাঁর সঙ্গে এক দফা কথা হয়েছে ইন্টারকমে। তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, আমার সঙ্গে দেখা

দুদিন আগে মুন্সিগঞ্জের হাঁসাড়া কবরস্থানে গিয়েছিলাম। পাড়ার শেষ প্রান্তে সেই কবরখানা। পৃথিবীর সব ফুল সেখানে ফুটে আছে। লাল শিমুল ছেয়ে আছে কবরের ওপরে। আমের মুকুলে আগাম গুটিও ধরেছে। কান পাতলে মনে হয় মৃতেরা কথা বলছে।

কে একজন অফিসের নম্বরে ফোন করে বলেছেন, পিলখানায় খুব গন্ডগোল হচ্ছে। সেটা শুনে টেলিফোন অপারেটর সুফলা আমাকে ফোন দিলেন

আমার অবস্থা তখন জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো, ‘অতিদূর সমুদ্রের ’পর হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা’। দিনভর তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো কূলকিনারা করতে পারছি না। স্থানীয় লোকজন আমাকে সাহায্য না করে উল্টো সন্দেহ করতে শুরু করেছে। এ রকম অবস্থায় তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে

কারা প্রশাসনের মহাপরিদর্শক বা আইজি (প্রিজনস) ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। গণমাধ্যমবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে সাংবাদিকদের মধ্যে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। সেই কর্মকর্তা একদিন বিকেলে ফোন করে তক্ষুনি তাঁর দপ্তরে যেতে বললেন। গলার স্বর কিছুটা অস্বাভাবিক, ভয় পেলে

আমার প্রকৌশলী বন্ধু মনিমুলের স্বভাবই হলো সামান্য কিছু নিয়ে হইচই শুরু করা। সেটা হোক অফিসে, বাসায়, সামনাসামনি অথবা টেলিফোনে। তার অবস্থা দেখলে মনে হয়, এখনই কোনো দক্ষযজ্ঞ কাণ্ড ঘটে

শুক্রবার মানেই ক্রাইম রিপোর্টারদের আরাম হারামের দিন। সেদিন কোনো না কোনো ঘটনা ঘটবেই। তা-ও সেটা ছোটখাটো কোনো কিছু নয়, রীতিমতো হইচই ফেলা ঘটনা। ২০০২ সালের ১০ মে, শুক্রবার সকালটাও সেভাবে শুরু হয়েছিল দুরুদুরু মন নিয়ে।

রিকশাটি এসে থামল থানার ফটকের সামনে। দুই যাত্রীর একজন যুবক, অন্যজন ষাটোর্ধ্ব। যুবকের একটি হাত আলগোছে ধরে আছেন বয়স্ক লোকটি। কোনো রকম জোর-জবরদস্তি নেই। রিকশা থেকে নেমে দুজনে হেঁটে ভেতরে ঢুকলেন। মোহাম্মদপুর থানার ওসি তখন মুখ গুঁজে একটি

এক তরুণীর মুখের ওপর আমরা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছি। তিনি যা যা বলছেন, সবাই শুনছি আর একে অন্যের দিকে তাকাচ্ছি। এত মানুষের উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তরুণীটির কিন্তু কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি খুব আস্থার সঙ্গে অবলীলায়

একটি কথা স্বীকার করি, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে ‘সেভেন স্টার’, ‘ফাইভ স্টার’ বলে সন্ত্রাসীদের কোনো গ্রুপ কস্মিনকালেও ছিল না। সন্ত্রাসী জোটের এই কল্পিত নাম দিয়েছিলেন দৈনিক পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টাররা। এরপর পুলিশও সেই নাম ব্যবহার শুরু করে। এর আগে সুব্রত বাইন ও মুরগি মিলনকে নিয়ে

প্রতিদিন বেলা ১১টায় রিপোর্টার্স মিটিং। জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান নিজে সেই মিটিংয়ের মধ্যমণি। গ্রীষ্ম-বর্ষা বলে কোনো কথা নেই। মিটিংয়ে গরহাজির হলে হাজারটা কৈফিয়ত, মিথ্যা বলেও পার পাওয়ার জো নেই।

একদিন বিকেলের দিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে গেছি। দেখি আইজিপির কক্ষের সামনে বেশ জটলা। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ তখন আইজিপি। তাঁর স্টাফ অফিসার বেলাল হোসেন খুবই ব্যস্ত। কী ব্যাপার?

ভারতীয় সিনেমার চিরসবুজ নায়ক দেব আনন্দের ব্যাপারে বোম্বের (মুম্বাই) আদালতের একটি অদ্ভুত নির্দেশনা ছিল, তিনি কালো পোশাক পরে পথে বেরোতে পারবেন না। কারণ, কালো পোশাক পরলে তাঁকে দুর্দান্ত দেখাত। এমনিতেই স্মার্ট, সুপুরুষ তিনি। তার ওপর গায়ের উজ্জ্বল রং আরও ফুটত

মায়াবী চোখের নিষ্পাপ চাউনি। তাকালে মনে হয় ভেতরটা পড়া যায়। এমন লোককে ভালো না বেসে পারবে কেউ? মেয়েটির এই কথার কী জবাব দেব বুঝতে পারছি না। আমরা শুধু তাঁর কথা শুনছি। অপরূপ সুন্দরী তরুণীর এই অভিব্যক্তির কোনো জবাবও

আজ একটি খুনের গল্প বলব। রোজ ঢাকায় যেভাবে মানুষ খুন হয়, সে রকম। পুলিশের একটি কেতাবি হিসাব আছে, রাজধানীতে দিনে গড়ে একজন খুন হন, মাসে ৩০ জন। আজকের গল্পের খুনের ঘটনাটিও তেমন, জমা-খরচের খাতায় বৃদ্ধি পাওয়া সংখ্যার

সেবার ডিসেম্বরে বড্ড শীত পড়েছিল। সেই শীতের এক সন্ধ্যায় সিএসডিতে কাবাব খেতে গিয়ে দেখা কর্নেল গুলজার উদ্দিনের সঙ্গে। কিছুক্ষণ আড্ডা, তারপর এ-কথা, সে-কথা। এক ফাঁকে বললেন, ‘ওস্তাদ, জ্যাকেট রেডি রাইখেন।’ গুলজারের এই কথার মানে আমি জানি, ‘ভয়ংকর কিছুর জন্য

তারাগঞ্জ থেকে খালি রিকশা নিয়ে চালক ঝন্টু আসছিলেন সৈয়দপুরের দিকে। কাছাকাছি আসার পর লাল রঙের একটি প্রাইভেট কার আচমকা রিকশাটির সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে দুজন নেমে বড় আকারের একটি স্যুটকেস রিকশায় তুলে দিয়ে রিকশাওয়ালাকে বলেন, ‘এটা নিয়ে রেলস্টেশনে অপেক্ষা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত আনোয়ারুল ইকবাল তখন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান। খুলনার এরশাদ শিকদারকে জেলে পুরে ঢাকায় এসেছেন। ঠান্ডা মাথার মানুষ হিসেবে তাঁর বেশ নামডাক। তাঁর সঙ্গে চেনাজানাও অনেক দিনের। পুরোনো সম্পর্কের সুবাদে

সকাল থেকেই চারদিকে চাউর হচ্ছিল খবরটি। কিন্তু কিনারা করা যাচ্ছিল না কিছুতেই। কোনো ঘটনার সঙ্গে যখন প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকেন, তখন প্রায় এ রকমই হয়। সহজে কেউ মুখ খোলেন না, পাছে কোনো বিপদ হয়। ‘মুখ খোলা’ কথাটার মধ্যে একটু স্বীকারোক্তির গন্ধ

উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের ঠিক মাঝামাঝি একটি জায়গায় গাড়িটি পার্ক করা। কালো কাচে ঘেরা বলে ভেতরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আশপাশের বাড়ির দারোয়ান ও নিরাপত্তাকর্মীরা ভাবছিলেন, কোনো অতিথি গাড়িটি রাস্তায় রেখে বাসার ভেতরে

সবে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। গভীর সমুদ্রে নিয়মিত কাজে ব্যস্ত নৌবাহিনীর টহল জাহাজ এস আর আমিন। সেই জাহাজ থেকে আবছা আলোয় দূরে দেখা যাচ্ছিল বড় আকারের একটি ট্রলারের পাশে দুটি ছোট ট্রলার। ক্যাপ্টেন দুরবিন দিয়ে দেখতে

কুর্মিটোলা র্যাব হেডকোয়ার্টার্সে এক কর্মকর্তার রুমে বসে খোশগল্প করছি। কথায় কথায় কানে এল, বেনাপোল থেকে নাকি এক ভারতীয়কে আটক করে এখানে আনা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যস্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ

আমাদের আর তর সইছে না। সবাই অধীর অপেক্ষায়—কখন ফাটবে সেই বোমা। ঘণ্টা তিনেক অপেক্ষার পর নির্দেশ এল। দুই হাতে দুই কান ঢেকে নিচু হয়ে মাটিতে বসে পড়লাম।